1. admin@paharerkatha.com : paharer katha : paharer katha
  2. info@paharerkatha.com : পাহাড়ের কথা :
মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:৪০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ:
লামা উপজেলা শহরে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান লামা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উদযাপন রাখাইনে জান্তার বিমান হামলায় নিহত ৩১ লামায় নারী ও কন্যাশিশুদের প্রতি সহিংসতা বন্ধে ১৬ দিনের প্রচারাভিযান সম্পন্ন সাতকানিয়া-লোহাগাড়া মানবিক ফাউন্ডেশনের ফ্রি চিকিৎসা সেবা আলীকদমে অনুষ্ঠিত হলো ‘ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স আল্ট্রা ম্যারাথন’ লামা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক বছরে ৪৫৭ নরমাল ডেলিভারি লামায় ইটভাটায় প্রশাসনের অভিযান, ৪ ইটভাটাকে ৮ লক্ষ টাকা জরিমানা নাইক্ষ্যংছড়িতে বিএনপির দুই নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার আলীকদমের কুরুকপাতা ইউনিয়নে ‘বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ’র কমিটি ঘোষণা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সব কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে রিট শান্তিচুক্তির ২৮ বছর, যা বলছে জেএসএস আজ থেকে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে! তিন পার্বত্য জেলার স্কুলে বসছে স্টারলিংক সংযোগ

খাগড়াছড়িতে সেতুর অভাবে গোমতি থেকে বিচ্ছিন্ন ১৭ গ্রামের মানুষ

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৩
  • ২৭০ বার পড়া হয়েছে

সাগর চক্রবর্তী কমল, মাটিরাঙ্গা |

খাগড়াছড়ি মাটিরাঙ্গা উপজেলার গোমতি ইউনিয়নের হাজারো পরিবারের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের নাম গোমতিনদী ও ঘিলাছড়া। গোমতি বাজার থেকে উত্তরের সলিং রাস্তা ধরে গালামনি পাড়া থেকে ডানে গেলেই ‘ঘিলাছড়া’ আর সোজা উত্তরে ‘গোমতিনদী’। গোমতির উত্তর-পুর্বের হাজারো পরিবারের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ হিসেবে পরিচিত ‘গোমতিনদী’ ও ‘ঘিলাছড়া‘র ওপর সেতু নির্মিত না হওয়ার কারণে গোমতি থেকে বিচ্ছিন্ন ১৭ পাহাড়ী গ্রামের মানুষ।

পাহাড়ী জনপদে নিরাত্তার দায়িত্বে থাকা গোকুলমনি পাড়া বিজিবি ক্যাম্প ছাড়াও ১৭টি গ্রামের হাজারো পাহাড়ী পরিবারের বাস। আধা পাকা-আধা কাঁচা দীর্ঘ নয় কিলোমিটার এ সড়কটিতে ‘ঘিলাছড়া’ ও ‘গোমতিনদী’র উপর সেতু না থাকায় সড়কটি জনগনের কোন কাজে আসছেনা। বরং বেড়েছে মানুষের দুর্ভোগ। দুর্গম পাহাড়ী জনপদে ভোগান্তির অন্য নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে ঘিলাছড়া ও গোমতিনদী। শুধু জনভোগান্তিই নয় সেতু না থাকায় নিরাপত্তা প্রাচীর বাইরে রয়েছে ১৭ পাহড়ী গ্রাম। ফলে সেখানে গড়ে উঠেছে পাহাড়ের একটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠনের অভয়ারণ্য। তাদের অব্যাহত চাঁদাবাজিতে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে সাধারন পাহাড়ী জনগোষ্ঠি।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ঘিলাছড়ির পাহাড়ী ছড়ার দু’পাশে প্রশ্বস্ত কাঁচা রাস্তা থাকলেও দীর্ঘ বছরেও ঘিলাছড়ার উপর কোন সেতু নির্মিত হয়নি। একই ভাবে অধাপাকা আর আধাকাঁচা সড়ক থাকলেও স্বাধীনতার পরেও সেতু নির্মিত হয়নি গোমতিনদীর উপর। ফলে গোমতিনদীর ওপারে গোকুলমনি পাড়া বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যদের সীমান্ত সুরক্ষাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যেমন ভোগান্তিতে পড়তে হয় তেমনি সাধারন জনগনও ভোগান্তির শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

কোন এক সময় গোকুলমনি পাড়ার গোমতি নদীর উপরে একটি সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হলে কিবা কিকারণে সেতুটি কাজ বন্ধ হয়ে যায় তার কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

দীর্ঘ সড়কের ঘিলাছড়া ও গোমতিনদীর উপর সেতু নির্মিত না হওয়ায় পাঁয়ে হেঁটে ছড়া পার হচ্ছে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, কৃষক এবং সাধারন জনগণ। আদা, হলুদ, কলাসহ তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে সমস্যা হচ্ছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে নতুনপাড়ার নারায়ন ত্রিপুরা বলেন, সকালে সুর্য্য ওঠার আগে রওনা দিলেও পায়ে হেঁটে গোমতি বাজারে পৌছতে বেলা গড়িয়ে দুপুর হয়ে যায়। একই ভাবে নিজেদের অব্যাহত কষ্টের কথা জানালেন ভাঙ্গামুড়া-১ এলাকার বাসিন্দা হরিমোহন ত্রিপুরা। বর্ষা মৌসুমে ছড়ায় পানি বাড়ার কারণে যাতায়াত সর্ম্পূন বন্ধ হয়ে যায়। পাহাড়ী ঢলে নেমে আসা পানি না কমা পর্যন্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকতে হয়’।

গোমতির খাঁজা পাড়ার বাসিন্দা যুগান্ত বিকাশ ত্রিপুরা জানান, কেশবমহাজন পাড়া, বেয়াদন্ত পাড়া, প্রার্থনা কারবারী পাড়া, নতুন পাড়া, গোকুলমনি পাড়া, খাঁজা পাড়া, ভাঙ্গামুড়া, কাপতলা পাড়াসহ ১৭টি পাহাড়ী পাড়া থেকে প্রায় তিনশতাধিক ছাত্র-ছাত্রী প্রতিদিনই দীর্ঘ পাহাড়ী পথ পায়ে হেঁটে গোমতি বিকে উচ্চ বিদ্যালয়ে যায়। সেতু না থাকায় তাদেরকে প্রতিনিয়তই ভোগান্তির শিকার হতে হয়। বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টিতে ছড়ার পানি বেড়ে যায়, ফলে এ সময় শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে পারে না।

ঘিলাছড়া ও গোমতিনদীর ওপর দীর্ঘদিনেও সেতু নির্মিত না হওয়ায় ১৭টি গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগে আছে জানিয়ে গোমতির ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার মিলন ত্রিপুরা বলেন, কেউ অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেয়া সম্ভব হয় না। অনেকেই বিনা চিকিৎসায় মারা যায়। তার মতে ঘিলাছড়া ও গোমতিনদী‘র ওপর সেতু নির্মিত না হওয়ায় এখনকার নিরাপত্তাও বিঘিœত হচ্ছে। পাশাপাশি দিনের পর দিন স্থানীয় চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম বাড়ছে।

ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত ১৭ গ্রামের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে ঘিলাছড়া ও গোমতিনদীর ওপর সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে গোমতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সেতুর অভাবে জনদুর্ভোগের পাশাপাশি এ জনপদে স্থানীয় সন্ত্রাসীদের অব্যাহত চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছে সাধারন মানুষ। সেতু দুইটি নির্মাণ করা হলে গোমতির সঙ্গে দুর্গম পাহাড়ি জনপদের যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। পাশাপাশি মানুষের নিত্যদিনের দুর্ভোগ কমে আসবে।

গোমতিনদী ও ঘিলাছড়া‘য় সেতু না থাকায় পিছিয়েপড়া পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ নাগরিক সুবিধা হতে বঞ্চিত হচ্ছে উল্লেখ করে মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো: রফিকুল ইসলাম প্রতিনিধি‘কে বলেন, যোগাযোগব্যবস্থা নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। সেতু দুটি নির্মান করা হলে এখানকার সাধারন মানুষ নিরাপত্তা প্রাচীরের মধ্যে আসবে বলেও জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, জননিরপত্তাসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার বিষয়টি বিবেচনা করে ঘিলাছড়া ও গোমতিনদীর ওপর সেতু নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট