প্রিন্ট এর তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ৪, ২০২৬, ২:৫০ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬, ২:৪০ অপরাহ্ন
আদালতের রায়ে লামায় আপন ভাই কর্তৃক বেদখল জমি ফিরে পেলেন পারুল আক্তার
নিজস্ব প্রতিবেদক |
অবশেষে বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় আপন ভাই, ভাতিজা ও ভাবী কর্তৃক বেদখল হওয়া জমি ফিরে পেলেন পারুল আক্তার নামের এক নারী। বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বান্দরবান আদালতের নির্দেশে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারী) অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে এ জমি উদ্ধার করে পারুল আক্তারকে বুঝিয়ে দেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুবায়েত আহমেদ। পারুল আক্তার লামা পৌরসভা এলাকার কাটাপাহাড়ের বাসিন্দা মৃত হাফেজ আহমদের মেয়ে ও আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী। অবৈধ দখলদাররা হলেন- বাদী পারুল আক্তারের আপন বড় ভাই মো. মাঈনুদ্দিন (৪২), তার স্ত্রী নুর আয়েশা (৩৮), ছেলে মিনার হোসেন (২৪) ও কামাল হোসেন বাপ্পি (২৩)। উচ্ছেদ অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন, লামা থানা পুলিশ সদস্যরা।
আদালতের রায়ের নথি থেকে প্রাপ্ত সূত্রে জানা গেছে, ২৯৩নং ছাগল খাইয়া মৌজাস্থ লামা পৌরসভার কাটাপাহাড় এলাকার পারুল আক্তারের নামীয় আর/০৮ নং হোল্ডিং এর আন্দর ১৫ শতক জমি মো. মাঈনু্দ্দিনরা দীর্ঘদিন ধরে বেদখল করে ভোগ করে আসছিলেন। পরে পারুল আক্তার ভাই কর্তৃক বেদখলকৃত জমি উদ্ধারে ভূমি অপরাধ প্রতিকার ও প্রতিরোধ আইন, ২০২৩ এর ৮ ধারা অনুযায়ী আদালতেে একটি মামলা করেন। মামলার প্রেক্ষিতে আদালত ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আদালত-০১, বান্দরবান পার্বত্য জেলা এর ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের ৫.৪২.০৩০০.৪০৬.০০০.০০১.০০১.২৫-৬৫ সংখ্যক স্মারকের পরিপ্রেক্ষিতে ভূমি অপরাধ প্রতিকার ও প্রতিরোধ আইন, ২০২৩ এর ৮ ধারা অনুযায়ী অবৈধ দখলদার অপসারণের নিমিত্তে উচ্ছেদ কার্যক্রমের সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানসহ দায়িত্ব পালনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লামা রুবায়েত আহমেদকে নিয়োগ প্রদান করেন।
মামলার বাদী পারুল আক্তার বলেন, আমার নামিয় ১৫ শতক জমি জোর করে দখলে রেখেছিলো আমার ভাই মো. মহিউদ্দিন। এ জায়গার জন্য আমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলো। আমি নিরোপায় হয়ে ভূমি অপরাধ প্রতিকার ও প্রতিরোধ আইন, ২০২৩ এর ৮ ধারায় মামলা করলে আদালত কাগজপত্র পর্যালোচনা করে নিয়ম মাফিক শুনানী শেষে আমার পক্ষে রায় দেয় আদালত। রায়ের পর বিধি মোতাবেক ২ ফেব্রুয়ারী২০২৬ ইং তারিখ উচ্ছেদ অভিযান করে বিবাদীদের কাছ থেকে জায়গা উদ্ধার করে আমাকে বুঝিয়ে দেয়। আমি আদালতের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।
উচ্ছেদ অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে লামা উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুবায়েত আহমেদ বলেন, আদালতের নির্দেশে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারী) থানা পুলিশের সহযোগিতায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালা করে মো. মাঈনুদ্দিনদের দখলে রাখা জমি উদ্ধার করে বাদী পারুল আক্তারকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বেদখলে থাকা টিনসেড ঘরে রক্ষিত মালামাল অপসারণ করে বিবাদী মো.মাঈনুদ্দিনকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। উচ্ছেদ অভিযানের আগে বিবাদীদেরকে বাদীর জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য তিনবার নোটিশ দেওয়া হলেও বিবাদীরা জমি ছেড়ে যায়নি বলেও জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রিট রুবায়েত আহমেদ।
Sent 45m ag
প্রধান সম্পাদক : বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রিয়দর্শী বড়ুয়া, প্রকাশক : প্রদীপ কান্তি দাশ, সম্পাদক : মো. নুরুল করিম আরমান, আইন বিষয়ক উপদেষ্ঠা : এ্যডভোকেট ফয়সাল আজিজ।
সম্পাদকীয় কার্ষালয় : প্রেসক্লাব ভবন (দ্বিতীয় তলা), প্রধান সড়ক, লামা পৌরসভা, বান্দরবান
ই-মেইল paharerkatha@gmail.com, মোবাইল: ০১৭৫০৪৪৪৯৯৬/০১৮১৪৮৪৫০৭৩
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত