
মো. আবুল বাশার নয়ন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বান্দরবান-৩০০ নং আসনে মোট ৫জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন।বৃহস্পতিবার যাছাই বাছাই শেষে ৫জনই বৈধতা পেয়েছেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে বান্দরবান রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষনে দেখা যায়, নগদ অর্থে বিএনপি প্রার্থী সাচিং প্রু জেরী, স্বর্ণ ও ঋণে এগিয়ে রয়েছে এনসিপি প্রার্থী আবু সাইদ মো: সুজাউদ্দিন। অর্জনকালীন সম্পদে জামায়াত প্রার্থী অডভোকেট আবুল কালাম এগিয়ে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী মো: আবুল কালাম আজাদ এর ব্যাংকে টাকা জমা থাকলেও বসতবাড়ি ছাড়া কিছু নেই জাতীয় পার্টি প্রার্থী আবু জাফর মোহাম্মদ ওয়ালী উল্লাহ’র।
হলফনামায় বিএনপির ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী পেশা হিসেবে ব্যবসা উল্লেখ করেছেন। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি। পরিবারে স্ত্রী ও সন্তানসহ নির্ভরশীলদের মধ্যে স্ত্রী, ২ছেলে ১মেয়ে রয়েছে। সাচিং প্রু’র অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ টাকার পরিমান- ১৬লাখ ১০ হাজার টাকা, স্ত্রীর নামে ১৩লাখ ৪৫ হাজার ৫০০টাকা এবং নির্ভরশীলদের নামে ১৩লাখ ৩হাজার টাকা। স্ত্রীর নামে ১টি প্রাডো গাড়ি, ১টি ট্রাক, ১টি বলবো। নির্ভরশীলদের নামে ২টি মোটরসাইকেল, নিজের নামে ২৫তোলা স্বর্ণ, স্ত্রীর নামে ১ভরি স্বর্ণ রয়েছে।
অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজের নামে অর্জনকালীন মূল্য ১৭লাখ ১০হাজার টাকা, স্ত্রীর নামে অর্জনকালীন মূল্য ৩০লাখ ২৫হাজার ৫০০, যার বর্তমান মূল্য ২১লাখ ৩০হাজার ৫০০ টাকা এবং নির্ভরশীলদের নামে ১৮লাখ ৩হাজার যার বর্তমান মূল্য ১৪লাখ ৫৩হাজার টাকা। বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট মুহাম্মদ আবুল কালাম হলফ-নামায় উল্লেখ করেছেন, তিনি এলএলবি পাশ। তাঁর কৃষি খাতে বার্ষিক আয় ৬লাখ ৪৩হাজার টাকা, বাড়ি এ্যাপার্টম্যান্ট খাতে ১লাখ ১৩হাজার ৭০০টাকা, ব্যবসা খাতে ৪লাখ ১০ হাজার টাকা, আইন পেশা খাতে ১০লাখ টাকা, অন্যান্য খাতে ২লাখ ৬৮ হাজার ৩৩৩টাকা।
অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ অর্থ ৩লাখ ৫০ হাজার টাকা, স্ত্রীর নামে ১লাখ ৫০হাজার টাকা, কোম্পানীর শেয়ার
৫লাখ ৫০হাজার টাকা, স্ত্রীর নামে ৭লাখ টাকার স্বর্ণলংকার, ১টি এক্স নোহা, ৭০হাজার টাকার ইলেক্সট্রনিক্স সামগ্রী ও ৬০হাজার টাকার আসবাবপত্র। নিজের নামে স্থাবর সম্পদ কৃষি জমি রয়েছে ৩৫.২৭একর,
দোকান ৫০হাজার টাকা, নিজের নামে বাইশারীতে ভবন ১০লাখ ৫৬হাজার টাকা ও বান্দরবানে স্ত্রীর নামে ভবন ৩০লাখ টাকা, নিজের নামে কক্সবাজারে বাড়ি ২৫লাখ টাকা, স্ত্রীর নামে চট্টগ্রামে বাড়ি ৪৬লাখ ৮৬হাজার টাকা, নিজের নামে বাগান ২লাখ টাকা।
অর্থাৎ নিজের নামে অর্জনকালীন সম্পদের মূল্য ৪২লাখ ১৫ হাজার ৫২৭টাকা, স্ত্রীর নামে ৭৬লাখ ৮৬হাজার টাকা। অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত শাপলাকলি প্রতিকের প্রার্থী আবু সাঈদ মো: সুজাউদ্দিন পেশায় সাংবাদিক ও ফ্রিল্যান্সার উল্লেখ করেছেন। তিনি অর্নাস পাশ। চাকুরী খাতে তাঁর আ ৫লাখ, ৫০ হাজার টাকা, সাংবাদিকতায় দেশের বাইরে থেকে আয় ১৩লাখ ৫০হাজার টাকা। নগদ টাকার পরিমান-৬লাখ ৮১হাজার ২৪২টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা- ৮৫হাজার ১৯৯টাকা। সিটি ব্যাংকে ঋণ রয়েছে ৩লাখ ৯০ হাজার টাকা।
হলফনামা
এছাড়া ১টি মাইক্রোবাস, ১৫ভরি স্বর্ণ, ইলেক্সট্রনিক্স সামগ্রী ১লাখ, আসবাবপত্র ৯০হাজার, ৭.৭৫ একর জমি যার মূল্য ২৩লাখ ৭৫হাজার টাকা। তবে তাঁর ক্রেডিট কার্ড লোন রয়েছে ৩লাখ ৯০ হাজার টাকা।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা প্রতিকের প্রার্থী
মো: আবুল কালাম আজাদ হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করেছেন দাওরায়ে হাদিস। তাঁর ব্যবসা খাতে বার্ষিক আয় ৪লাখ ১০ হাজার টাকা, অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজের নামে ১৮লাখ ৬১হাজার টাকা, ১টি ট্রাক, ২০ভরি স্বর্ণ, ১লাখ টাকার ইলেক্সট্রনিক্স সামগ্রী, আসবাবপত্র ১লাখ টাকা, ১টি ফ্ল্যাট। অর্থাৎ তাঁর অর্জনকালীন সম্পদ ২৮লাখ ৬১হাজার টাকা, যার বর্তমান মূল্য ৫০ লাখ টাকা।
এছাড়া জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী আবু জাফর মোহাম্মদ ওয়ালী উল্লাহ শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি। তিনি ব্যবসা খাতে আয় ৫লাখ ৪৮ হাজার ৮৩৫টাকা আয় করেন। স্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজের নামে বসতভিটার ১০ শতাংশ জমি ছাড়া আর কিছু নেই। একটি সিআর মামলা রয়েছে।