
সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ৭%কোটা, ৯৩% মেধা নিশ্চিত করে এবং ৬ দফা দাবি মেনে নেয়ার দাবিতে রাঙামাটি জেলা পরিষদ কমপ্লিট শাটডাউন করেছে কোটা বিরোধী ঐক্যজোট, রাঙামাটির সাধারন শিক্ষার্থী এবং সচেতন নাগরিকবৃন্দ। সোমবার (২৪নভেম্বর) সকাল থেকে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা ব্যানার নিয়ে জেলা পরিষদের মূল ফটকে অবস্থান নিয়েছে। এসময় তারা বলেন, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের হস্তান্তরিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ নভেম্বরের মধ্যেই সম্পন্ন করতে হবে।
আমাদের ছয় দাবি হলো- ‘‘৭%কোটা, ৯৩%মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ, প্রশ্নপত্র ফাঁস অনিয়মের অভিযোগের কারণে শিক্ষা ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, জেলা প্রশাসনের তত্ববধানে প্রশ্নপত্র ট্রেজারীর মাধমে সংরক্ষণ, পরিক্ষা খাতার মূল্যায়ন জেলা প্রশাসনের অধীনে করা, নিয়োগ পরিক্ষার আগে উপজেলা কোটা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা এবং পরিক্ষা শেষে সকল পরিক্ষার্থীর নাম, রোর নাম্বার এবং ঠিকানা প্রকাশ করা।
ফলাফলে বাঙালি ও তফসিলভুক্ত উপজাতীয় জনগোষ্ঠী দুই তালিকা আলাদাভাবে প্রকাশ এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ১৯৮৯ সালের জেলা পরিষদ আইনে উপজাতীয় অগ্রাধিকার নীতি মানা হচ্ছে কি না, এ বিষয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যা প্রদান করার দাবী জানানো হয়। জেলা পরিষদ এসব দাবি পূরণে ব্যর্থ হলে চেয়ারম্যানসহ সব সদস্যদের পদত্যাগে বাধ্য করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
একই দাবীতে গত ২০নভেম্বর রাঙামাটি জেলায় ছত্রিশ ঘণ্টার হরতাল ঘোষণা দেয় সংগঠনটি। ঐদিন দুপুরে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করার ঘোষণা দিলে ছয় দফা দাবী জানিয়ে হরতাল প্রত্যাহার করে নেয়। শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষার তারিখসহ বিভিন্ন বিষয়ে রাঙাামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ একক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানানো হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. রেজুয়ান খান স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সরকার ঘোষিত কোটা পদ্ধতি পার্বত্য জেলাগুলোতে একইভাবে প্রযোজ্য হবে কিনা সে বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরণ করলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হতে এ বিষয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এর মতামত গ্রহণ করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করে। এ প্রেক্ষিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কোটার বিষয়টি তিন পার্বত্য জেলায় কীভাবে কার্যকর করা হবে সে বিষয়ে মতামত চেয়ে ইতিমধ্যে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরণ করেছে। লিখিত পরীক্ষা স্থগিতকরণ, পুনরায় তারিখ ঘোষণা করা, আবার স্থগিত করা ইত্যাদি বিষয়ে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ এককভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এসময় সংগঠনটির পক্ষ থেকে ইমাম হোসেন ইমু, ফজলে রাব্বি এবং মো. জনিসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা বক্তব্য রাখেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কোটা পদ্ধতি সংশোধনে বলা হয়েছে, সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়িত্তশাসিত, আধাস্বায়িত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান, স্বশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষের এবং বিভিন্ন করপোরেশনের চাকুরীতে/ কর্মে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা ভিত্তিক ৯৩%, মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরঙ্গনার সন্তানদের জন্য ৫%, এবং শারীরীক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য ১% কোটার কথা বলা আছে। নির্ধারিত কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সংশ্লিষ্ট কোটার শূন্য পদ সমূহ সাধারণ মেধা তালিকা সাধারণ মেধা তালিকা হতে পূরণ করা হবে।