
স্টাফ রিপোর্টার |
বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের গুলিস্তান বাজারে অসুস্থ গরু জবাই করে গোশত বিক্রির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অসুস্থ গরু জবাই বন্ধে প্রাণী সম্পদ বিভাগসহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি বিধিনিষেধ ও স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে প্রকাশ্যে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আজ বৃহস্পতিবার সকালে (২২ জানুয়ারী) গুলিস্তান বাজারে মফিজ নামের ব্যবসায়ী একটি অসুস্থ গরু জবাই করেন। একই সঙ্গে পারভেজ ও মফিজ নামের দুই ব্যবসায়ীর নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যবসা চালছে দীর্ঘ দিন ধরে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পশু জবাইয়ের আগে কোনো ধরনের ভেটেরিনারি স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা সরকারি অনুমোদন গ্রহণ করা হয়নি। এছাড়া খোলা জায়গায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গরু জবাই করা হয়েছে। জবাইকৃত গোশত সাধারণ ক্রেতাদের কাছে গোশত বিক্রি করা হচ্ছে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বাংলাদেশ সরকারের পশু জবাই ও মাংস নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১ অনুযায়ী অসুস্থ, রোগাক্রান্ত বা অযোগ্য পশু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইন অনুসারে—পশু জবাইয়ের আগে বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ভেটেরিনারি সার্টিফিকেট থাকতে হবে।অনুমোদনহীন স্থানে পশু জবাই করা দণ্ডনীয় অপরাধ। আইন অমান্য করলে জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
কিন্তু গুলিস্তান বাজারে এসব বিধান কার্যত উপেক্ষিত হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অসুস্থ পশুর মাংস মানবদেহে ফুড পয়জনিং, ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ, অন্ত্রজনিত রোগসহ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
তায় উপজেলা প্রশাসন, প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও বাজার কমিটির প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন—দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা কর বাজারে নিয়মিত পশু স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করার। পাশাপাশি অবৈধ ও অসুস্থ পশু জবাই বন্ধ দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবী জানা স্থানীয়রা।