
নিজস্ব প্রতিবেদক।
বান্দরবান জেলার লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স দুইটি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো পড়ে আছে। মেরামত অযোগ্য অবস্থায় থাকায় এ অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে এম্বুলেন্স সেবা পাচ্ছেনা দুর্গম পাহাড়ি এলাকা মানুষ।
জানা যায়, লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুটি অ্যাম্বুলেন্স।রয়েছে।এর মধ্যে একটি গাড়ি কয়েকদিন কোনো রকমে মেরামত করে চালানো হলেও বর্তমানে দুটিই গ্যারেজে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। গাড়িগুলোর মধ্যে ১৯৯৭ সালে একটি ও ২০০৯ সালে আরেকটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।
বান্দরবানের সবচেয়ে জনবহুল উপজেলা লামার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রায় তিন লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র ভরসা। লামা, আলীকদম ও চকরিয়া উপজেলার আংশিক এলাকার রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এখানে প্রতিদিন গড়ে বহির্বিভাগে ২৫০–৩৫০ জন, জরুরি বিভাগে ১৫০–২০০ জন এবং অন্তর্বিভাগে ৯০–১০০ জন রোগী চিকিৎসা নেন। এমন জনবহুল এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাসিন্দা ও সেবা প্রত্যাশীরা ক্ষোভ প্রকাশ করার পাশাপাশি দ্রুত নতুন অ্যাম্বুলেন্স চালুর দাবি জানান স্থানীয়রা।
উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ছলিম উল্লাহ, লামা সদর ইউনিয়নের বলিয়ারচর গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় দ্রুত গাড়ি পাওয়া খুব কঠিন। অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় রোগীকে সঠিক সময়ে চট্টগ্রাম বা কক্সবাজারে নেওয়া সম্ভব হয়না। এতে করে অনেক রোগীর জীবন ঝুঁকিতে পড়ে।
অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. লায়েজ আহম্মদ ভূঁইয়া জানান, আমি যোগদানের সময় একটি গাড়ি আগে থেকেই পরিত্যক্ত ছিল। অন্যটি বারবার মেরামত করে চালানো হলেও বর্তমানে সেটি সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে গেছে।
এদিকে উপজেলার বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বার্থে একটি নতুন অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি প্রেরণ করেছেন লামা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা নাদিম।তিনি বলেন, পুরানো দুটি অ্যাম্বুলেন্স বেশ কয়েকবার মেরামত করা হয়েছে। মেকানিকরা জানিয়েছেন এগুলো আর মেরামতযোগ্য নয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং বান্দরবান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। জনস্বার্থে এখানে দ্রুত নতুন অ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন।