1. admin@paharerkatha.com : paharer katha : paharer katha
  2. info@paharerkatha.com : পাহাড়ের কথা :
শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:১৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ:
রাঙ্গামাটির আসামবস্তি-কাপ্তাই সড়কে পিকআপ খাদে পড়ে নিহত ২ শ্রমিক লামায় বন্যহাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত ও সামাজিক বনায়ন উপকারভোগী ৭৫ জনের মাঝে চেক বিতরণ লামায় ক্যান্সার আক্রান্ত জয়নাল আবেদীন’র চিকিৎসায় এগিয়ে আসার অনুরোধ লামায় নির্বাচনী আচরণ বিধি অবহিতকরণ লামায় চিল্ড্রেন হ্যাভেন ট্রাস্ট স্কুলে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত নাইক্ষ্যংছড়িতে অবৈধ করাতকলের ৭ মালিককে জরিমানা এমবিবিএস কোর্সে ভর্তির সুযোগ পেল লামার কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’র ৪ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি শিক্ষার্থী লামায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী কাইংপা মুরুং পুলিশের হাতে বন্দুক সহ গ্রেফতার বান্দরবানের রোয়াংছড়ি থানার তারাছা পুলিশ ক্যাম্প পরিদর্শনে পুলিশ সুপার আলীকদমে শিক্ষকের উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ফাঁসিয়াখালীতে অতি দরিদ্র শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ ফাইতংয়ে মুক্তিযোদ্ধা মরহুম শামসুল আলম স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত লামায় ফাইতং সড়কের বেহাল অবস্থা, মেরামতের দাবিতে আন্দোলন লামায় একটি চক্র সুবিধা না পেয়ে পরিকল্পিত অপপ্রচার ইউএনও’র বিরুদ্ধে লামায় ‘ফেস্টিভ ইলেকশন ক্যাম্পেইন’ অনুষ্ঠিত

সন্দ্বীপে স্বাস্থ্যসেবার করুণদশা, চিকিৎসা দেন ঝাঁড়ুদার

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: শনিবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
  • ৭৩৩ বার পড়া হয়েছে

সাইফ রাব্বী, সন্দ্বীপ |

মৌলিক অধিকারগুলোর অন্যতম স্বাস্থ্যসেবা, যার ছিঁটেফোঁটাও নেই সন্দ্বীপে। নানা অনিয়ম-অভিযোগ সন্দ্বীপ স্বাস্থ্য বিভাগের দিকে। দায়িত্বশীলদের কাছে অভিযোগ নিয়ে গেলে শুনতে হয় নানা যুক্তি এবং জনগণকে দেখানো হয় আইন আদালত। জনবল সংকটের তালবাহানায় সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্যখাত অনিয়মের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। এই দ্বীপে কর্মরত ডাক্তাররা সরকারি হাসপাতালে চেম্বার না করে ব্যস্ত থাকেন বেসরকারি চেম্বার নিয়ে। কেউ ব্যস্ত শহরে পড়াশোনায়। যারা আছেন কর্মস্থলে তারাও অফিসের চেয়ে সরকারি বাসায় বেশি থাকেন। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এসব অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলেও স্বাস্থ্য বিভাগের বড় কর্তাদের ঘুম যেন ভাঙছেই না। ব্যবস্থা গ্রহণ করছি বলেই হাফ ছেড়ে বেঁচে যান। সন্দ্বীপে চিকিৎসকের অবহেলায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। জানা যায়, ২ বছরের শিশু সায়েমের শ্বাসকষ্ট হলে পরিবার তাকে সরকারি গাছুয়া হাসপাতালে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত ডাক্তার জাহিদুল মাওলা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঘুমাতে চলে যান। পরে শিশুটি মারা যায়।
সায়েমের মা রাজিয়া সুলতানা অভিযোগ করে বলেন, ‘সামান্য কাশি ও বুকে কফের সমস্যায় ছেলেকে রাত ২টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসি। ডাক্তার, নার্স সবাই তখন ঘুমে। ঝাড়ুদার আনোয়ারের মাধ্যমে অনেক ডেকে ডাক্তারকে ঘুম থেকে তোলা হয়। কয়েকটি ওষুধ লিখে দিয়ে ডাক্তার আবার ঘুমিয়ে পড়েন। নার্সকে ঘুম থেকে ডেকে তোলার পর নার্স তাড়াহুড়ো করে বাচ্চাকে অক্সিজেন লাগিয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়েন। অক্সিজেন খুলে গেলে নার্সকে বলতে গেলে তিনি বলেন, আমি কী করবো? আমার দায়িত্ব শেষ। অক্সিজেন লাগানোর পরও বাচ্চার অবস্থা ভালো না হওয়ায় ডাক্তার-নার্সকে অনেক ডাকার পরও তারা আসেননি। ঝাড়ুদার আনোয়ার অক্সিজেন বন্ধ করে বাচ্চাকে নেবুলাইজার দিয়েছে। সকাল ৫টার দিকে আনোয়ার দ্বিতীয়বার নেবুলাইজার দেওয়ার পর বাচ্চা আমার কোলে সোজা হয়ে যায়। এ সময় আমাদের চিৎকার শুনে ডাক্তার আসেন। তিনি ছিলেন দাঁতের ডাক্তার। কিছু বুঝতে না পেরে তিনি বারবার অন্য ডাক্তারদের ফোন দিচ্ছিলেন। অন্য ডাক্তাররা এসেছে দুই ঘণ্টা পর। ততক্ষণে আমার বাচ্চা আর নেই।’
ঝাড়ুদার দিয়ে চিকিৎসা করানো হচ্ছে সন্দ্বীপ গাছুয়া হাসপাতালে। বিষয়টি আনোয়ার নিজে স্বীকার করে বলেন, ‘আমি অনেকদিন ধরে হাসপাতালে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করি। রোগীদের ক্যানোলা লাগাই। ড্রেসিং করি। মাঝে-মধ্যে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার মেডিকেল সার্টিফিকেট দিই।’
এ বিষয়ে তখন কর্তব্যরত ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘ডাক্তারদের সাথে থাকতে থাকতে শিখে গেছে।’
সেদিনই দেখা গেছে সাংবাদিকের সামনে ঝাড়ুদার আনোয়ারকে দিয়ে ইমারজেন্সি রোগীর ড্রেসিং এর কাজ করছেন।
এসব বিষয়ে কথা বলতে সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মানস বিশ্বাসকে বার বার ফোন করলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। পরে ডাক্তারের কম্পাউন্ডার আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ‘স্যার বৃহস্পতিবার ৫টায় চট্টগ্রাম গেছেন। কারণ শুক্রবার সরকারি ছুটি। প্রতি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার তিনি বাড়িতে যান।’
চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক বিভাগীয় সহকারী পরিচালক ডা. শাখাওয়াৎ উল্যাহ বলেন, ‘জরুরি প্রয়োজন ছাড়া স্টেশন ছেড়ে যাওয়া উচিত না। ছেড়ে গেলেও একজনকে লিখিত দায়িত্ব দিতে হবে। সন্দ্বীপে এইসব নিয়ম ফলো করা হচ্ছে না। ডাক্তার এবং বিভিন্ন পদের কর্মকর্তা-কর্মচারী কেউ কোন বিধিবিধান মতো চলছেন না। যারা দায়িত্বরত আছেন তাদের কোনো আন্তরিকতা নেই। চাকরি করার আছে করছেন। দেশের বিভিন্ন বিভাগ থেকে নার্সরা আসেন। তারা খারাপ ব্যবহার করেন, কারণ যাতে তাদের বদলি করে দেওয়া হয়। আমি বিভাগীয় দায়িত্বে থাকাকালীন এমন অনেক অভিযোগ এসেছে। স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি ঘটতো যদি সন্দ্বীপ বিচ্ছিন্ন দ্বীপ না হতো। দ্বীপটি বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক এবং সিভিল সার্জন সব সময় যেতে পারেন না। উনারা তদারকি করতে পারলে সমস্যার সমাধান হতো।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট