
নিজস্ব প্রতিবেদক |
সমিতির কার্যালয় থেকে সাধারণ সম্পাদক রবিউল হোসেন ও কোষাধ্যক্ষ সাখাওয়াত উল্লাহ কর্তৃক সমিতির মালামাল চুরি ও আত্মসাৎ করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন লামা উপজেলা রিক্সা চালক সমবায় সমিতির সভাপতি বাদশা মিয়া। শনিবার সন্ধ্যায় লামা উপজেলা শহরের মৌচাক গলিস্থ সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়। এ সময় সমিতির সহ সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. মোজাম্মেল উদ্দিন, সদস্য সুরুজ মিয়া, হাবিল মিয়া ও মাঈন উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সভাপতি মো. বাদশা মিয়া জানায়, লামা উপজেলা রিক্সা চালক সমবায় সমিতি লিমিটেড ১৯৮৪ সালে স্থাপিত হয়ে এখন পর্যন্ত কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। গত বছরের ১১ জুলাই সমবায় আইন অনুযায়ী সমিতির কার্যালয়ে নিরপেক্ষ ভাবে তিনজন নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমে গোপন ব্যালেট নির্বাচন সম্পন্ন হয়। এ নির্বাচনে আমি মো. বাদশা মিয়া বিপুল ভোটে নির্বাচিত হই। সমবায় কর্মকর্তাগণ সরকারি বিধি মোতাবেক গেজেটের মাধ্যমে সভাপতি সহ ৬ সদস্যকে অনুমোদন প্রদান করেন। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত সুন্দর ও সুচারুভাবে কার্যক্রম চালিয়ে আসছি। কিন্তু সমিতির দুইজন সদস্য বিগত দিনে আমার সাথে সমন্বয় না করে ভিন্নপথে পরিচালিত হয়ে সমিতির কার্যক্রমকে ব্যাহত করার জন্য রবিউল ও সাখাওয়াত উল্লাহ সংঘবদ্ধ হয়ে পরিকল্পিত ভাবে সমিতি কার্যালয়ের মালামাল চুরি ও আত্মসাৎ করেন। চুরির ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিতসহ দুইজনের বিরুদ্ধে লামা থানায় মামলা রুজু করি। এ বিষয়ে একাধিক বার সালিশ করার পরও তারা সমিতির কাগজপত্র ও মালামাল জমা না দিয়ে উল্টো আমার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে সমাজ ও সদস্যদের নিকট আমাকে প্রশ্নবিদ্দ এবং হেয় প্রতিপন্ন করছেন। আমি সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত আভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
সমিতির সভাপতি বাদশা মিয়া আরো বলেন, সমিতির দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সদস্যদের মন জয় করার জন্য রশিদের মাধ্যমে ১০ টাকা করে সদস্যদের থেকে সামান্য টাকা আদায়ের সিদ্ধান্ত হয়। ১০ টাকার মধ্যে ৫ টাকা আদায়কারীর বেতন বাকি ৫ টাকা একাউন্টে জমা করি। কিন্তু কতিপয় কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা বানোয়াট কথা বলে আমার সম্মান হানি করছেন। বর্তমানে সমিতির একাউন্টে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩১৬ টাকা জমা আছে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় ব্যাংকে সদস্যদের আমানতের টাকাগুলো রবিউল ও সাখাওয়াাতুল্লাহ আমাকে অবহিত না করে সদস্যদের জমাকৃত টাকা চুরি করে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক একাউন্ট নং- ১০৫৮ থেকে টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করেন। আমি তাৎক্ষণিক খবর পেয়ে ব্যাংকে গিয়ে সদস্যদের আমানতের টাকা যেন উত্তোলন করতে না পারে সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করি। এছাড়াও রবিউল ও সাখাওয়াতুল্লাহ’র চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ও সমিতির কার্যক্রমের বিঘœ ঘটানোর বিষয়ে সমিতির উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মতামত নিয়ে দুই জনকে ডাকের মাধ্যমে রেজিষ্ট্রি করে তিনটি নোটিশ করি। তারা ঐ নোটিশ গ্রহণ না করে কুচক্রী মহলের ইন্দনে আমার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন সহ যাবতীয় প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন। যাহা মোটেও সঠিক নয়। এ বিষয়ে সমিতির সদস্যদেরকে বিভ্রান্তি না হওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।