1. admin@paharerkatha.com : paharer katha : paharer katha
  2. info@paharerkatha.com : পাহাড়ের কথা :
শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:২১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ:
রাঙ্গামাটির আসামবস্তি-কাপ্তাই সড়কে পিকআপ খাদে পড়ে নিহত ২ শ্রমিক লামায় বন্যহাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত ও সামাজিক বনায়ন উপকারভোগী ৭৫ জনের মাঝে চেক বিতরণ লামায় ক্যান্সার আক্রান্ত জয়নাল আবেদীন’র চিকিৎসায় এগিয়ে আসার অনুরোধ লামায় নির্বাচনী আচরণ বিধি অবহিতকরণ লামায় চিল্ড্রেন হ্যাভেন ট্রাস্ট স্কুলে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত নাইক্ষ্যংছড়িতে অবৈধ করাতকলের ৭ মালিককে জরিমানা এমবিবিএস কোর্সে ভর্তির সুযোগ পেল লামার কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’র ৪ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি শিক্ষার্থী লামায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী কাইংপা মুরুং পুলিশের হাতে বন্দুক সহ গ্রেফতার বান্দরবানের রোয়াংছড়ি থানার তারাছা পুলিশ ক্যাম্প পরিদর্শনে পুলিশ সুপার আলীকদমে শিক্ষকের উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ফাঁসিয়াখালীতে অতি দরিদ্র শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ ফাইতংয়ে মুক্তিযোদ্ধা মরহুম শামসুল আলম স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত লামায় ফাইতং সড়কের বেহাল অবস্থা, মেরামতের দাবিতে আন্দোলন লামায় একটি চক্র সুবিধা না পেয়ে পরিকল্পিত অপপ্রচার ইউএনও’র বিরুদ্ধে লামায় ‘ফেস্টিভ ইলেকশন ক্যাম্পেইন’ অনুষ্ঠিত

বান্দরবানে পাড়াবন দূর করছে পানির অভাব

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৩
  • ৩১০ বার পড়া হয়েছে

চাইমং মারমা, বান্দরবান  |

 পাহাড়ি অঞ্চলে পানির সমস্যা অনেক পুরনো। তবে পাড়াবনের কারণে বান্দরবানের বিভিন্ন উপজেলায় পানির সংকট অনেকটাই কম বলে জানা গেছে। এমনকি ফাল্গুন-চৈত্রমাসে পাহাড়ে তীব্র পানির সংকট দেখা দিলেও বান্দরবানের অনেক এলাকা এই সংকট থেকে মুক্ত।

পাড়াবন শুধু গ্রামবাসীর পানির অভাব দূর করেনি, এনেছে অর্থনৈতিক সংকটও কিছুটা দূর করেছে। চলতি বছর পাঁচ লাখ ২৫ হাজার টাকার বাঁশ বিক্রি করেছে রোয়াংছড়ি উপজেলার বিজয়পাড়ার পাড়াবন সমিতির সদস্যরা। এই বনে ৩০ থেকে ৩৫ প্রজাতির গাছ এবং বাঁশ রয়েছে। বনটি পশুপাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল। কেননা পাড়াবনে কেউ পশুপাখি শিকার করে না। এ জন্য গড়ে তোলা হয়েছে  পরিবেশ ও গ্রামীণ বন সংরক্ষণ সমিতি। পাকিস্তানি শাসন আমল থেকেই গ্রামবাসী এই বন সংরক্ষণ করে আসছে। এ জন্য সমিতির মাধ্যমে নিয়েছে নানা উদ্যোগ। এই সমিতির রয়েছে আলাদা গঠনতন্ত্র।

সম্প্রতি সরেজমিনে পরিদর্শনে সময়, বিজয় পাড়ার কারবারি ও পাড়াবন কমিটির প্রবীণ সদস্য প্রতিজয় তঞ্চঙ্গ্যা কথাগুলো বলছিলেন।

বিজয় পাড়ায় তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের বসবাস। প্রায় ১৭৫ একর আয়তনের এই পাড়াবনে পানকরা ছড়া, হুদুক ছড়া ও ডাইলং ছড়া ছাড়াও ছোট ছোট ঝিরি রয়েছে। ঝোঁপ, বাঁশগাছে পরিপূর্ণ  ঘন জঙ্গল হওয়ার কারণে এখানে সারা বছর পানি থাকে। ঝিরি থেকে জিএফএস পদ্ধতিতে জিআই পাইপের মধ্যে দিয়ে পানি গ্রামের ১৪টি স্থানে সরবরাহ করা হয়।

গ্রামের গৃহিণী মেথলি তঞ্চঙ্গ্যা, নন্দাবতী তঞ্চঙ্গ্যা, পুষ্পমালা তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, আগে খাওয়ার পানি, রান্না-গোসলের পানির অভাব ছিল এখন চৈত্র মাসেও পানি থাকে। আমাদের আর পানি নিয়ে চিন্তা করতে হয় না।

তিন বছর পরপর পাড়াবন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। সাত সদস্যবিশিষ্ট হয় কমিটি। কমিটির সভাপতি কুশলচন্দ্র তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, পাকিস্তান আমল থেকেই এই পাড়াবন গ্রামবাসী সংরক্ষণ করে আসছে। বর্তমানে বনে ৫০ থেকে ৬০ বছরের পুরনো বড় বড় গাছ আছে। যে গাছগুলো মরে যায় সেগুলো পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিক্রি করা হয়। তবে প্রতিবছর ভাদ্র ও আশ্বিন মাসে একবার পাড়াবন খোলা হয় ঘর-বাড়িসহ ক্ষেত খামারে ঘেরা দিতে বাঁশের প্রয়োজনে।

পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত কোনো সদস্য অমান্য করলে জরিমানার মুখে পড়তে হয়। যেমন সমিতির অজান্তে কেউ বাঁশকরুল বা বাঁশ চুরি করলে পাঁচশ টাকা জরিমানা করা হয়। গাছ কাটলে গাছের উচ্চতা অনুসারে পাঁচ হাজার থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়। এমনকি কেউ বেত চুরি করলেও জরিমানার বিধান রয়েছে। শুধু তাই নয়, কেউ চুরি করেছে প্রমাণ দিতে পারলে পাড়াবন কমিটি থেকে তাকে একশ বাঁশ পুরস্কার প্রদান করা হয়। মোটকথা পরিচালনা কমিটিকে না জানিয়ে কেউ পাড়াবনে প্রবেশ করতে পারেন না। কারণ এই পাড়াবন এখন পাড়াবাসীর অর্থনৈতিক উৎস্য। চলতি বছরের শুরুতে বাঁশ বিক্রি করে ৩৫ জন সদস্য ১৫ হাজার টাকা করে পেয়েছেন।

পাড়াবনে কড়ই, গর্জন, গামার, বৈলাম, সিভিট, জারুল, বান কোলা, গোদা, গুটগুটিয়া, আমড়া, আমলকী, হরিতকি, ধুপগাছসহ বনজ ও ঔষধী ত্রিশ থেকে পঁয়ত্রিশ প্রকার বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে। বাঁশের মধ্যে মিতিঙ্গা বাঁশ, পায়া বাঁশ, ডলু বাঁশ ও ওরা বাঁশ রয়েছে। মায়া হরিণ, বানর, ভীমরাজ, অজগরসহ বিভিন্ন প্রজাতির পশুপাখির অবাধ বিচরণ রয়েছে এই বনে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বন ও ভূমি অধিকার আন্দোলন কমিটির বান্দরবানের সভাপতি জোয়াম লিয়ান আমলাই বলেন, সবচেয়ে বড় রুমা উপজেলার রেমাক্রী প্রাংসা ইউনিয়নে সুং সং পাড়াবন। এটি প্রায় চারশ একর। বান্দরবান জেলায় ২৩১টি পাড়াবন রয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, পাড়াবনের মাধ্যমে পাড়াবাসী একদিকে যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। তারা নিরাপদ পানিও পাচ্ছে। অন্যদিকে পাড়াবাসীকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকেও রক্ষা করছে এই বন। আবার বিপন্ন প্রজাতির প্রাণীর আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে জায়গাগুলো।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বন ও ভূমি অধিকার আন্দোলন কমিটি বান্দরবানে নিজস্ব উদ্যোগে বিভিন্ন সময় জরিপ করে বান্দরবান জেলায় ২৩১টি পাড়াবনের সংখ্যা পেলেও দুর্গম এলাকার কিছু পাড়াবনের আয়তন পরিমাপ করা যায়নি। পাড়াবনকে এখনো সরকার স্বীকৃতি দেয়নি। সরকারী উদ্যোগে প্রাকৃতিক বন ও প্রাকৃতিক জলাধার রক্ষায় সরকারকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান জোয়াম লিয়ান আমলাই।

বান্দরবানের বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হক মাহাবুব মোর্শেদ বলেন, বান্দরবান জেলার পাড়াবনের এখনো সুনির্দিষ্ট তালিকা হয়নি। তবে প্রতিবছর বিভিন্ন পাড়াবন পরিচালনা কমিটিকে বনবিভাগ থেকে বিভিন্ন ফলদ ও বনজ চারা বিতরণ করা হয়।  চলতি বছর জুলাই মাসে পঞ্চাশ হাজার বিভিন্ন ফলদ ও বনজ চারা বিতরণ করার টার্গেট রয়েছে বলে জানান তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট