1. admin@paharerkatha.com : paharer katha : paharer katha
  2. info@paharerkatha.com : পাহাড়ের কথা :
শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ:
রাঙ্গামাটির আসামবস্তি-কাপ্তাই সড়কে পিকআপ খাদে পড়ে নিহত ২ শ্রমিক লামায় বন্যহাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত ও সামাজিক বনায়ন উপকারভোগী ৭৫ জনের মাঝে চেক বিতরণ লামায় ক্যান্সার আক্রান্ত জয়নাল আবেদীন’র চিকিৎসায় এগিয়ে আসার অনুরোধ লামায় নির্বাচনী আচরণ বিধি অবহিতকরণ লামায় চিল্ড্রেন হ্যাভেন ট্রাস্ট স্কুলে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত নাইক্ষ্যংছড়িতে অবৈধ করাতকলের ৭ মালিককে জরিমানা এমবিবিএস কোর্সে ভর্তির সুযোগ পেল লামার কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ’র ৪ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি শিক্ষার্থী লামায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী কাইংপা মুরুং পুলিশের হাতে বন্দুক সহ গ্রেফতার বান্দরবানের রোয়াংছড়ি থানার তারাছা পুলিশ ক্যাম্প পরিদর্শনে পুলিশ সুপার আলীকদমে শিক্ষকের উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ফাঁসিয়াখালীতে অতি দরিদ্র শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ ফাইতংয়ে মুক্তিযোদ্ধা মরহুম শামসুল আলম স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত লামায় ফাইতং সড়কের বেহাল অবস্থা, মেরামতের দাবিতে আন্দোলন লামায় একটি চক্র সুবিধা না পেয়ে পরিকল্পিত অপপ্রচার ইউএনও’র বিরুদ্ধে লামায় ‘ফেস্টিভ ইলেকশন ক্যাম্পেইন’ অনুষ্ঠিত

বান্দরবানে ফিরে আসা পরিবারগুলোতে খাদ্য সংকট : কুকি-চিন আতঙ্কে ঘরছাড়া

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৩
  • ২৫০ বার পড়া হয়েছে

 

বান্দরবান প্রতিনিধি |

পাহাড়ের নতুন সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) নির্যাতন, নিপীড়ন, অত্যাচার, আতঙ্ক ও ভয় নিয়ে গেল ২৩ এপ্রিল নিজ বসতভিটে ছেড়ে পালিয়ে যান দুর্গম এলাকার বসবাসরত মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা, খিয়াং, খুমী, ম্রো ও বমসহ কয়েকটি সম্প্রদায়ের মানুষ। গোলাগুলির আতঙ্কে একে একে সব পরিবারের লোকজন গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র ঠাই নিয়েছিলেন। প্রায় আটমাস নিজের ঘরবাড়ি, জন্মভিটা ছেড়ে কেউ ভয়ে জঙ্গলে, কেউ জুমঘরে কেউ আবার আত্মীয়দের বাসায় আশ্রয় নেয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর সেসব মানুষজন গ্রামে ফিরে এসেছে। বসতভিটায় ফিরে আসলেও সেসব গ্রামের মধ্যে দেখা দিয়েছে খাবারের সংকট। এতে গ্রামবাসীদের মাঝে চোখে মুখে পড়েছে চিন্তার ভাজ।

জানা গেছে, গেল ৫ নভেম্বর রুমা উপজেলার পাঁচকিলো দূরে মুনলাই পাড়ার গ্রামে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) সাথে শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটি প্রথম পর্যায়ের সরাসরি বৈঠক শুরু হয়। টানা কয়েক ঘণ্টা বৈঠক শেষে চারটি বিষয়ে দাবি নিয়ে দু’পক্ষে সমঝোতা স্বাক্ষর করে। এরপরই পাহাড়ের পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে উঠে। প্রথম বৈঠক শেষে সেনাবাহিনী সহযোগিতায় গত শনিবার পাইক্ষ্যং পাড়া, থানচি প্রাতা পাড়া বম সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠীরা ফিরে এসেছেন, অনান্য পরিবারও ফিরতে শুরু করেছে।

রোয়াংছড়ি সদর ইউনিয়নের ৩৪১ পাইক্ষ্যং মৌজায় ১২টি গ্রাম রয়েছে। সেসব গ্রামের মানুষজন আতঙ্কিত হয়ে সবাই পালিয়ে গেছে। ১২টি গ্রামের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে খামতাং পাড়া ও পাইক্ষ্যং পাড়া। তাছাড়া সবগ্রাম মিলে ১০টি পরিবার মাত্র জুম চাষ করতে পেরেছে। ৭৭টি পরিবার জুমচাষ করতে পারেননি। অনান্য পরিবারগুলো ফিরে আসলেও গ্রামে গ্রামে খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। একই চিত্র থানচি দুর্গম এলাকার প্রাতা পাড়াতে, সেখানের প্রত্যেক গ্রামে গ্রামে দেখা দিয়েছে খাবারের সংকট।

পাইক্ষ্যং পাড়া ও প্রাতাপাড়া কারবারি পিতার বম ও পার্কেল বম জানান, ৮ মাস ধরে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে ছিলাম। এখন এসে দেখি ঘর ভাঙ্গা, হাড়িপাতিলসহ সবকিছু নষ্ট হয়ে গেছে। তবে সবচেয়ে মূল সমস্যা হল খাবার। বিভিন্ন সমস্যার কারণে জুম চাষ করতে পারিনি।

মৌজার হেডম্যানরা জানিয়েছেন, গত শনিবার পাইক্ষ্যং পাড়াতে ৯৭ পরিবারদের মাঝে ৫৭টি পরিবার ফিরে এসেছে। গতকাল আরো দুটি পরিবার এসেছেন। প্রাতা পাড়াতে ২৮টি পরিবারের ১১টি পরিবার ফিরে এসেছেন। তবে কেউ কেউ শহরে আবার কেউ অন্য গ্রামে বসবাস করছেন। তারা ফিরবেন কিনা সেটি তাদের জানা নেই। অনান্য গ্রামগুলোতে যোগাযোগ করতে না পারায় খবর নেওয়া যায়নি। তবে এখন সব গ্রামের মানুষজন খাবারের সংকটে ভুগছে।

বম সোস্যাল কাউন্সিলের সভাপতি লাল জার লম বম জানান, প্রথম সংলাপ শেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়াতেই মানুষজন গ্রামে ফিরতে শুরু করেছে। গ্রামের খাদ্য সংকটের বিষয়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সাথে কথা হয়েছে। জেলা পরিষদ থেকে সহযোগিতা পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রোয়াংছড়ি উপজেলার চেয়ারম্যান চহাইমং মারমা জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় পাইংক্ষ্যং পাড়া থেকে পালিয়ে যাওয়া অনেক পরিবার এখন নিজ এলাকায় ফিরে এসেছেন। তবে খাদ্য সংকটের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। সম্মতি পেলে সেসব এলাকায় সহযোগিতা করা হবে।

থানচি উপজেলায় ইউএনও আবুল মনসুর জানান, ফিরে আসা পরিবারদের মাঝে যেহতু খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে সেহেতু প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।

উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবর থেকে বান্দরবানে কেএনএফ নামে নতুন একটি সশস্ত্র সংগঠন তৎপরতা শুরু করে। এই সংগঠনটির সাথে সংঘর্ষে ও তাদের পুতে রাখা বিস্ফোরকে সেনা সদস্যসহ এ পর্যন্ত ১৫ জন নিহত হয়েছে। গ্রেপ্তার হয়েছে কেএনএফ’র ১৭ জন সদস্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট